আমাদের জঙ্গল জীবন…. ০৪ মান্দারবাড়িয়া… ভয়ঙ্কর বন্য চারপাশ…

 

 

মোহসিন উল হাকিম : পশ্চিম সুন্দরবনের শেষ প্রান্ত… মানে দক্ষিণের শেষ অংশের নাম মান্দারবাড়িয়া। ভাবছিলাম সাগর পারি দিয়ে যাবো সেখানে। কিন্তু মার্চ এর ৪ তারিখ থেকে তিন নম্বর সিগন্যাল ছিলো। ট্রলার নিয়ে উত্তাল সাগর পারি দেওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে বিকল্প পথ ধরলাম। কারণ, মান্দারবাড়িয়া আমাদের যেতেই হবে…

দুবলার চর থেকে একটানা সেখানে যাওয়া সম্ভব না। জোয়ার ভাটার হিসাব মিলিয়ে রওনা করে প্রথমে দ্বীপচর বা পুতনির দ্বীপ। পরের জোয়ারে আড়পাঙ্গাসিয়ার মোহনা পারি দিয়ে ঢুকে পড়লাম বেহালা খালে। আড়পাঙ্গাসিয়ার পাশ থেকে মালঞ্চ পর্যন্ত এই বড় খাল ধরে পারি দিতে সময় লাগে অন্তত দেড় ঘন্টা। মান্দারবাড়িয়া যেতে হলে অবশ্য তার আগেই ছোট খালে ঢুকে পড়তে হয়। সেই খাল ধরে সাগর পর্যন্ত যেতে সময় লাগে আরও দেড় ঘন্টা।

নিচের ভিডিওটি সেই ছোট্ট খাল, মান্দারবাড়িয়ার। এখানে কয়েকটি গাছের নাম পরিচয় তুলে ধরেছি। বাকী ছবিগুলোও সেই সরু অথচ দীর্ঘ খালের দুই পাশের। মূলত গাছ গাছালিগুলো দেখানোই এর উদ্দেশ্য। পূর্ব পাশের সুন্দরবন আর পশ্চিম পাশের সুন্দরবনের চেহারা কিছুটা আলাদা। লবণাক্ততার কমবেশীর কারণেই মূলত এই পার্থক্য। সুন্দরী গাছ এদিকে খুব কমই দেখা যায়। তবে গড়ান, গেওয়া, কেওড়া, কাকড়া, পশুর, ধুন্দল, খলসে, হেতেল, গোলপাতা, কালী লতার গাছ গুলো এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি শুরু হবে। পাল্টে যাবে সুন্দরবনের চেহারা।

সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে মানুষ আসে না তেমন একটা। পর্যটকদের জন্যও সেই সুযোগ নাই। কারণ, এটি অভয়ারণ্য। অবশ্য জেলেরা চুরি করে এদিকে আসে মাছ ধরতে। তাদের মতে, সুন্দরবনের মাছের রাজধানী নাকী এই অঞ্চল। যাই হোক, নানা রকমের গাছ দেখতে দেখতে সেদিন পৌঁছে গেলাম বাহির মান্দারবাড়িয়া। নোনাপানির জগতে সে এক ছবির মতো সুন্দর জায়গা। বর্ষায় এই মান্দারবাড়িয়া ধারণ করে ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপ। তবে ট্রলার নিয়ে দাঁড়ানো যায় না সেখানে…

এই বর্ষায় আবারও যাওয়ার ইচ্ছা আছে…. ফুলসহ গাছগুলোর ছবি দিবো তখন…

Please follow and like us:
error0
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)