রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০
বাড়ি শ্যামনগর করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও মাদ্রাসা শিক্ষককে ক্লাস না করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর...

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও মাদ্রাসা শিক্ষককে ক্লাস না করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস!

শ্যামনগর প্রতিনিধি : সারাদেশে ‘করোনা’ ইস্যুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শ্যামনগরে এক মাদ্রাসার সহকারী মৌলভীর বিরুদ্ধে ক্লাস রুটিন অনুসারে ক্লাস না করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নিজামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত জিএনডিএম-০৭/২০ স্মারকে ইবতেদায়ী সহকারী মৌলভী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ নোটিস প্রদান করেছেন। যা গত ২৬ এপ্রিল ৩১০ নং রেজি. ডাকযোগে প্রেরিত এবং ৩ মে ইবতেদায়ী সহকারী মৌলভী শফিকুল ইসলামের কাছে পৌঁছায়। নোটিসে জানানো হয়েছে, ইবতেদায়ী সহকারী মৌলভী শফিকুল ইসলাম ক্লাস রুটিন অনুসারে ক্লাস না করা, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা আদেশের অবাধ্য হওয়া, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে চরম অবমাননা ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব/ব্যক্তিগত শুনানির জন্য বলা হয়েছে। ইবতেদায়ী সহকারী মৌলভী শফিকুল ইসলাম জানান, ‘করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সকল প্রতিষ্ঠান সরকার কর্তৃক বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আনীত অভিযোগে সুনির্দিষ্ট তথ্যাবলি উল্লেখ না থাকায় আমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছি’। ওই মৌলভী আরও বলেন, ‘শিক্ষা বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ শুনানি/তদন্তে আসল রহস্য বের হবে। একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীকে এ ধরনের শোকজ করা হয়েছে’। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাও. গোলাম মোস্তফা জানান, ‘শুক্রবার ব্যতীত মাদ্রাসা সব সময় খোলা রয়েছে’। মাদ্রাসার সভাপতি খান আকবর হোসেন জানান, ‘সুপার কী জন্য কারণ দর্শানোর নোটিস করেছেন, তা জানা নেই’। শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ তেজারত জানান, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন ক্লাস বন্ধ, ‘তথাপি শিক্ষককে অযথা হয়রানি করার অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, ‘মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার যৌথভাবে আর্থিক অনৈতিক সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে, সেই আক্রোশে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কে নাজেহাল করতে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি (জমিয়াতুল মোদার্রেছীন) সাতক্ষীরা জেলা ও শ্যামনগর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মাও. ওজায়েরুল ইসলাম জানান, ‘সরকারী নির্দেশনা না মেনে করোনা পরিস্থিতিতেও প্রতিষ্ঠান খোলা এবং এ মাদ্রাসার সভাপতি খান আকবর হোসেন, সুপার মাও. গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই। পবিত্র রমজান মাসে এক দিকে করোনা ভাইরাস মহামারি অন্য দিকে শিক্ষকদের হয়রানি এটা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ৮ মাসেরও বেশি সময় আগে। এরপর থেকে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে...

কলারোয়ায় চৌকিদারের পিটুনিতে একজনের মৃত্যু

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় চৌকিদারের পিটুনিতে মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি কলারোয়া উপজেলার হিজলদী এলাকার জোহর আলীর পুত্র...

সুন্দরবনে মাছের পাশ বন্ধ : অনাহারে কাটছে জেলেদের জীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি : সুন্দরবনে মাছের পাশ পারমিট বন্ধ হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে সুন্দরবন উপক‚লের হাজার হাজার জেলে পরিবার। যাদের নুন আনতে পানতা ফুরায়...

৩০৪ জনের পরীক্ষায় পজিটিভ ১০০ জনের : কালিগঞ্জে নতুন করে আইনজীবীসহ ৮ জন করোনায় আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে আইনজীবীসহ ৮ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা...

Recent Comments