বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
তালা প্রতিনিধি: দলিত এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামাজিক বঞ্চনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা গবেষনা প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নাগরিক উদ্যোগের সহযোগীতায় এবং উদ্দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার বিনেরপোতা ঋশিল্পী প্রশিক্ষণ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, সাতক্সীরার বিশিষ্ট সাংবাদিক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহি।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মইনুল ইসলাম। এসময় দলিত এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বঞ্চনা এবং আর্থ-সামাজিক সমস্যা উপর গবেষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, গবেষক দলের পক্ষে রায়হান হায়াত সরোয়ার ও নিলিমা খাতুন। প্রকল্পের ধারনা উপস্থাপন করেন, নাগরিক উদ্যোগের কর্মসূচী ব্যবস্থাপক নাদিরা পারভীন।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উদ্দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জয়ন্তী রানী মন্ডল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, নাগরীক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী ও বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোন কর্মী জাকির হোসেন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীত কুমার দাস ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান মৃধা, বিশিষ্ট সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী ও মহিলা পরিষদের সভাপতি জোৎস্না দত্ত।
আশার প্রদীপ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক পরিতোষ কুমার মৃধা’র সঞ্চালনায় সভায় উদ্দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোমা রানী সরকার ও দলিত নারী কল্পনা রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ লাখ দলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষ এখনও সামাজিক বৈষম্য, বঞ্চনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবা থেকে দূরে অবস্থান করছেন। এরমধ্যে সাতক্ষীরার উপকূলীয় আশাশুনি, শ্যামনগর, পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলায় বাস করেন প্রায় ২ লাখ দলিত জনগোষ্ঠী। তাদের অধিকাংশই নিম্নমানের বাসস্থান, লবণাক্ত পরিবেশ, নিরাপদ পানির অভাব ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গত তিন দশকে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে লবনাক্ততা প্রবেশ করেছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষি, পশুপালন, জীবনধারণের পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সবই হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দলিত নারীরা- যাদের জীবন ঝুঁকি, বৈষম্য, সহিংসতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিচয় বৈষম্যের জটিল বাস্তবতায় নিমজ্জিত।
সভায়- দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা জাতীয় ডাটাবেইস তৈরি, ভূমি মালিকানা সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুপেয় পানির নিশ্চয়তা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি এবং স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দাবি ওঠে । এসময় সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ উপস্থিত ছিলেন।