বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

News Headline :
উন্নয়ন ও শান্তিতে থাকতে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানালেন সাবেক এমপি আশু তালায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত জনগণ সুযোগ দিলে দুর্নীতি নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো: এমপি প্রার্থী রবিউল বাশার শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শিশু ও যুবদের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদকের সুস্থ্যতা কামনায় তালা রিপোর্টার্স ক্লাব দলিতের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বিতরণ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে “ ব্লু কার্বন” প্রকল্পের লার্নিং ও সভা সুন্দরবনে মৎসজীবিদের জন্য টেকসই মৎসসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ব্লু কার্বন প্রতিবেশ বিষয়ে শেয়ারিং সভা

দেবহাটায় বাগদা চিংড়ি ভাগ্য ফেরালো আনারুলের

শেখ মাহতাব হোসেন: ২০২৪ উৎপাদন বছরে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গাশিসা গ্রামের আহসানিয়া ফিস খামার বাগদা চাষে অভাবনীয় সফলতা দেখিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গাশিসা গ্রামে আহছানিয়া ফিস খামার নামে বাগদা চিংড়ি খামারের কার্যক্রম চলমান আছে যার মালিক জনাব আনারুল, পিতাঃ জবেদ আলী মোড়ল, মাতাঃ আলেয়া বেগম, গ্রাম: পূর্ব নলতা, ডাকঘর: নলতা মোবারক নগর। তার খামারটি মুলতঃ ১২ টি পুকুর সম্বলিত , খামারের মোট আয়তন ৯.০০ হেক্টর যার জলায়তন ৪.৮০ হেঃ। এটি একটি আধানিবিড় বাগদা চিংড়ি খামার। চাষকালে তিনি উপকুলীয় পরিবেশগত বিষয়াদি বিবেচনায় রেখে পরিবেশ বান্ধব খামার পরিচালনা করছেন। তিনি চিংড়ি চাষে সরকার অনুমোদিত বৈধ উপকরন ব্যবহার করে থাকেন। চিংড়ি উৎপাদনে তিনি কখনো গ্রোথ হরমোন বা এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন না। সম্পুরক খাদ্য হিসাবে তিনি সর্বদা সিপি বা অবন্তি কোম্পানির মানসম্মত ফিড ব্যবহার করেন। মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তর সূত্রে জানা যায় উক্ত খাদ্য নমুনায়ন করে এ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন গ্রোথ হরমোন বা এন্টিবায়োটিক পাওয়া যায়নি। চিংড়ি নমুনায়ন করেও এ পর্যন্ত কোন গ্রোথ হরমোন বা এন্টিবায়োটিক/কীটনাশক/নিষিদ্ধ কোন ক্যামিক্যাল পাওয়া যায়নি। ঘের প্রস্তুতকালীন তিনি কোন নিষিদ্ধ কোন ক্যামিক্যাল ব্যবহার করেন না যা পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ২০২৪ উৎপাদন বছরে খামারের ৪.৮০ হেক্টর জলাশয়ের ১২ টি পুকুরে ৬১.২৫ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন করেন। অর্থাৎ হেক্টর প্রতি ১২.৭৬ মে. টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদন করেছেন। প্রতি হেক্টরে ব্যয় করেছেন ৭০.৮৩ লক্ষ টাকা, আয় করেছেন ১০৯.৩৮ লক্ষ টাকা, ফলে হেক্টর প্রতি তিনি লাভ করেছেন ৩৮.৫৪ লক্ষ টাকা, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সাড়া জাগানো খবর। এ ধরনের আধা নিবিড় পদ্ধতি অনুসরন করে আশপাশের অনেক বাগদা চিংড়ি চাষি বাগদা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ফলে আধা নিবিড় বাগদা চিংড়ির খামার সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেবহাটা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: আবুবকর সিদ্দিক বলেন উপজেলায় বর্তমান ৩ টি আধানিবিড় বাগদা খামার রয়েছে। আধানিবিড় খামার বাড়ানোর জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে কারন সনাতন পদ্ধতিতে যেখানে হেক্টর প্রতি মাত্র ৩৫০ কেজি বাগদা উৎপাদিত হয় সেখানে আধানিবিড় পদ্ধতিতে হেক্টর প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার কেজি বাগদা উৎপাদন সম্ভব। উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায় দেবহাটা উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর আয়তনের ৭৭৫ টি গলদা ঘের রয়েছে যার উৎপাদন ৮৮৯ মে.টন ও ৮৮৯৩ হেক্টর আয়তনের ৭৪৬৯ টি বাগদা চিংড়ি ঘের রয়েছে যার উৎপাদন ৩৩৯০ মে.টন। অন্যদিকে মাত্র ১১ হেক্টর আয়তনের ৩ টি আধানিবিড় বাগদা খামার রয়েছে যার উৎপাদন ১৪৩ মে.টন। দেবহাটা উপজেলায় মাছের ৪৯৩৩ মে. টন চাহিদার বিপরীতে ১০৪৮১ মে.টন মাছ উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ ৫৫৪৮ মে.টন মাছ বেশি উৎপাদিত হয়। মাছ ও চিংড়ি চাষে সমৃদ্ধ এ উপজেলা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানিতেও ভূমিকা রাখছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Hostitbd.Com
Design & Developed BY Hostitbd.Com