বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

News Headline :
উন্নয়ন ও শান্তিতে থাকতে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানালেন সাবেক এমপি আশু তালায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত জনগণ সুযোগ দিলে দুর্নীতি নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো: এমপি প্রার্থী রবিউল বাশার শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শিশু ও যুবদের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদকের সুস্থ্যতা কামনায় তালা রিপোর্টার্স ক্লাব দলিতের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বিতরণ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে “ ব্লু কার্বন” প্রকল্পের লার্নিং ও সভা সুন্দরবনে মৎসজীবিদের জন্য টেকসই মৎসসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ব্লু কার্বন প্রতিবেশ বিষয়ে শেয়ারিং সভা

’প্লীজ বাবা , সাংবাদিকতা ছাড়ো- অন্য কোনো চাকরি করো… তোমাকে আমরা হারাতে চাই না বাবা।’

 আদালতে নেওয়ার প্রাক্কালে প্রিজম ভ্যানে বন্দী উত্তরার সাংবাদিক রাসেল খানের আর্তনাত শুনেছে কী কেউ? দেখেছে কী তার কান্না? এ চিত্র দেখে তার তিন সন্তানই বলে উঠেছে, ’প্লীজ বাবা , সাংবাদিকতা ছাড়ো- অন্য কোনো চাকরি করো, না হয় ব্যবসা ধরো- তোমাকে আমরা হারাতে চাই না বাবা।’
আহারে সাংবাদিক, আহারে দুর্ভাগ্যের সাংবাদিকতা। সাত জনমের পাপমোচন করতেই বুঝি এই পেশাটিতে পা বাড়ায় সবাই। একবার সৌখিনতার বশে সাংবাদিকতা শুরু করলে আর তার নিস্তার নাই। কী এক অজানা মোহে আটকে পড়তেই শুরু হয় অনিশ্চিত জীবন, পাল্লা দিয়ে চলতে থাকে কষ্ট যন্ত্রণা।
সাংবাদিকতায় পা ফেলতেই একজন তরুণ প্রথমেই হারায় তার স্বজন পরিজন। আত্মীয়দের বিয়ে-শাদী সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে সবাই হাজির হলেও কোনো না কোনো কারণে সাংবাদিক পৌঁছাতে পারে না, পৌঁছানো হয় না তার। আর্থিক সংগতিও আহামরি না থাকায় অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হন নিজ পরিবারেও। অগত্যা তার বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায় আরেকজন সাংবাদিক, সহকর্মী বন্ধুরা।
একজন সাংবাদিকের সকল অবস্থা আরেকজন সাংবাদিকই কেবল বুঝতে পারেন, তার কষ্ট যন্ত্রণায় শান্তনা দেয়ার জন্য পাশে দাঁড়াতে পারেন। দিন-রাতের কমবেশি ১৮টি ঘন্টা একসঙ্গে কাটানো সেই সাংবাদিক বন্ধুদের যখন শত্রু হয়ে দাঁড়ায়, পরিস্থিতি হয় বড়ই ভয়ংকর।
উত্তরায় সাংবাদিক রাসেল খান ঠিক তেমনি দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন। নিজ পেশার সহকর্মী ভাই- বন্ধুরাই নানা কুটকৌশলে রাসেলকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন- এ কষ্ট তিনি কাকে জানাবেন? নিজেও কি মেনে নিতে পারছেন? তার চোখের পানিতে আস্তিন ভিজেছে, কথা বলতে চাইলেও আটকে গেছে কন্ঠ, দম বন্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
আজ আদালতে নেওয়ার প্রাক্কালে প্রিজন ভ্যানে বন্দী রাসেল খানের আর্তি শুনেছে কী কেউ? দেখেছে কী তার কান্না? এ চিত্র দেখে তার তিন সন্তানই বলে উঠেছে, ’বাবা প্লীজ, সাংবাদিক ছাড়ো- অন্য কোনো চাকরি করো, না হয় ব্যবসা করো- তোমাকে আমরা হারাতে চাই না বাবা।’
এমন রাক্ষুসে সাংবাদিকদের কাছে সারাদেশে আরো কত শত সাংবাদিক এহেন দুর্ভাগ্যের পরিণতি ভোগ করছেন তার হিসাব কে-ই-বা রাখে???
লেখক: সংগৃহিত

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Hostitbd.Com
Design & Developed BY Hostitbd.Com