বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

News Headline :
উন্নয়ন ও শান্তিতে থাকতে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানালেন সাবেক এমপি আশু তালায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত জনগণ সুযোগ দিলে দুর্নীতি নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো: এমপি প্রার্থী রবিউল বাশার শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শিশু ও যুবদের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদকের সুস্থ্যতা কামনায় তালা রিপোর্টার্স ক্লাব দলিতের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বিতরণ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে “ ব্লু কার্বন” প্রকল্পের লার্নিং ও সভা সুন্দরবনে মৎসজীবিদের জন্য টেকসই মৎসসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ব্লু কার্বন প্রতিবেশ বিষয়ে শেয়ারিং সভা

সংসদে সেঁজুতি: তৃণমূলের আশার প্রতিফলন

লায়লা পারভীন সেঁজুতি, যার পরিচিত একজন শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে। যিনি ইতোমধ্যে জীবন যুদ্ধের অর্ধেক সময় পার করে এসেছেন শিক্ষকতা ও মাঠের রাজনীতি করে। শুরু থেকে তৃণমূল মানুষের সাথে মিশে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী রাজনীতির সাথে তিনি গভীরভাবে জড়িয়ে আছেন। জীবনের উত্থান-পতন খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছে তার। তবে বড় বড় বিপদ, দু:খ, দুর্দশা আর হতাশা তাকে আটকে রাখতে পারেনি। সবকিছু উপেক্ষা করে তিনি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আজ এসে দাঁড়িয়েছেন যোগ্য স্থানে। তার পিতা স. ম আলাউদ্দীনের এক যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে তিনি ফিরেছেন তার দেশের অবহেলিত দক্ষিণ জনপদে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। দেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ স্থান জাতীয় সংসদে তার জায়গা হয়েছে। তিনি এখন কথা বলবেন-এদেশের উপকূলীয় মানুষের দু:খ, দুর্দশা নিয়ে; তিনি স্বপ্ন দেখবেন তার পিতার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার। কারণ এই লায়লা পারভীন সেঁজুতি একমাস বা একবছরে এসে এ জায়গা তৈরী করতে পারেনি। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সংগ্রাম করে তার পিতার আদর্শের রাজনীতি করে আজ এ অবস্থান তৈরী করেছেন। যে কারণে শতশত মনোনয়ন প্রত্যাশীর ভিড়ে সেঁজুতিকে খুঁজতে মোটেও কষ্ট হয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার পর একজন সেঁজুতিকে যেভাবে আপন করে নিয়েছে এ বঙ্গের মানুষ তা ছিলো চোখে পড়ার মতো। বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস আর ফুলেল শুভেচছায় সিক্ত হওয়া সেঁজুতি হয়তো এ দিনের কথা ভুলতে পারবে না কখনও। ঢাকা থেকে ফেরার পথে সাতক্ষীরা ও খুলনার সীমান্তবর্তী অঞ্চল আঠারো মাইল থেকে শতশত মোটরসাইকেল আর সাধারণ মানুষের ভীড়ে লোকে লোকারন্য রাস্তাঘাট। দীর্ঘ সারি সারি গাড়ি আর নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর সাতক্ষীরার এই প্রবেশদ্বার। সেদিন বুঝেছি তৃণমূল মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটলে রাজনীতি করা একজন মানুষের পরিবেশ পরিস্থিতি কত মধুর হতে পারে। একজন স. ম আলাউদ্দীনের মেয়ে হিসেবে তার এই পাওয়ার জায়গাটি আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।

কারণ সাতক্ষীরার প্রতি তার পিতা স. ম আলাউদ্দীনের অবদান, দলের জন্য তার ত্যাগ, আর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা ছিলো আজও স্মরণে রাখার মতো। স. ম আলাউদ্দীনের রাজনীতি আর দূরদর্শিতায় গড়ে উঠা হাজারো নেতাকর্মী আজ আওয়ামী রাজনীতির সাথে খুব গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সময়ে সাতক্ষীরায় স. ম আলাউদ্দীনের উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনায় তিনি অল্পসময়ে বেশ জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এই নেতা সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তী প্রজন্মকে কর্মমুখী শিক্ষায় গড়ে তুলতে তার প্রচেষ্টা ছিলো গতানুগতিক সমাজ থেকে কিছুটা ভিন্ন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল এন্ড কলেজ গড়ে তোলেন। যেটি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে চালু রয়েছে। অসাম্প্রদায়িক এই মানুষটির ছিলো বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক জীবন। যেখানে তিনি খুব কাছ থেকে তৃণমূলের মানুষের সাথে মিশেছেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিও হয়েছেন। দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৭০সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে তিনি অস্ত্র সংগ্রহে ব্যাপকভাবে কাজ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। অর্থাৎ দেশ স্বাধীনের ক্ষেত্রেও সামনে থেকে তার ভূমিকা ছিলো অনন্য।

একটি সময় এসে তিনি সাংবাদিকতাও করেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সাতক্ষীরার প্রথম পত্রিকা কাফেলায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। তারপর ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি নিজেই পত্রদূত পত্রিকা বের করেন। এরপর সাতক্ষীরা থেকে দৈনিক পত্রদূত বের হতে থাকে। তবে নিজের স্বপ্ন আর এদেশের প্রতি ভালোবাসাকে তিনি বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারেননি। ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটে তিনি গুলিবিদ্ধ না হলেও ১৯৯৬ এর ১৯ জুন একদল বিপথগামী মানুষের গুলিতে মৃত্যু হয় সাতক্ষীরার এই প্রাণ পুরুষের। তার মৃত্যুর পর পত্রিকাটি বন্ধের উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র হলেও সেটি সফল হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে সেঁজুতির সহযোদ্ধা সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং সেঁজুতির সম্পাদনায় নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে পত্রিকাটি আজও সাতক্ষীরার মানুষের প্রাণের পত্রিকা হয়ে বের হয়ে আসছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ একজন লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে ভালোবাসে। তার ওপর এসব মানুষের রয়েছে অগাধ আস্থা আর বিশ্বাস। কারণ তারা প্রত্যাশা রাখে স. ম আলাউদ্দীনের মেয়ে হয়ে সেঁজুতি এ জনপদকে তার পিতার মতো করেই আগলে রাখবে। অসহায়, নিপীড়িত এসব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের সুখ-দু:খের গল্প শুনবে আর সেসব কষ্ট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করবে। এসব মানুষের সাথে সুর মিলিয়ে আমরা সর্বস্তরের নাগরিকরাও চায়, লায়লা পারভীন সেঁজুতি তার পারিবারিক আদর্শে উজ্জীবীত হবে, সাধারণ মানুষের কথা বলবে আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন থেকে বাকি জীবন অতিবাহিত করবে। তার পথচলা আরো সহজ ও সুন্দর হোক-এ প্রত্যাশা রাখছি। লেখক: রিয়াদ হোসেন, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Hostitbd.Com
Design & Developed BY Hostitbd.Com