বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন

News Headline :
উন্নয়ন ও শান্তিতে থাকতে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানালেন সাবেক এমপি আশু তালায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত জনগণ সুযোগ দিলে দুর্নীতি নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো: এমপি প্রার্থী রবিউল বাশার শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শিশু ও যুবদের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদকের সুস্থ্যতা কামনায় তালা রিপোর্টার্স ক্লাব দলিতের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বিতরণ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে “ ব্লু কার্বন” প্রকল্পের লার্নিং ও সভা সুন্দরবনে মৎসজীবিদের জন্য টেকসই মৎসসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ব্লু কার্বন প্রতিবেশ বিষয়ে শেয়ারিং সভা

সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম আবিষ্কার, সাপের কামড়ে আর মরবে না কেউ

ডেস্ক রিপোর্ট: বিষধর সাপের দংশনে সময় মতো প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা না হলে মৃত্যু অনিবার্য! তবে বড় সমস্যা হলো, প্রজাতি ভেদে অ্যান্টিভেনম আলাদা হয়। ফলে দংশনকারী সাপ চিহ্নিত করতে না পারার কারণে সঠিক অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা যায় না। ফলে রোগী মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন। এই সমস্যা সমাধানে গোখরা, ক্রেইট বা শঙ্খিনী ও ব্ল্যাক মাম্বার মতো বিষধর সাপের সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম তৈরি করছেন গবেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইমিউনোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান গবেষক আইরিন এস খালেক ও তাঁর সহকর্মীরা একটি সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।

সায়েন্স ট্রান্সলেশন মেডিসিন জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। এই অ্যান্টিভেনম যেকোনো বিষধর সাপের বিষের প্রভাবকে প্রশমিত করতে সহায়তা করতে পারে। তাই এটিকে ‘সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম’ বলা হচ্ছে।

গবেষণাগারে তৈরি একটি অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণাপত্রে আলোচনা করা হয়েছে। সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষে পাওয়া নিউরোটক্সিন (যেসব বিষ স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল করে দেয়) প্রশমিত করতে পারে।

বিষধর সাপের কামড়ে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আর বেঁচে গেলেও অনেকে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন।

বাংলাদেশেও প্রতিবছর ৪ লাখেরও বেশি মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, সাপের কামড়ের ঘটনাগুলোর ৯৫ শতাংশই গ্রামাঞ্চলে ঘটে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের ১০ দশমিক ৬ শতাংশ পরে শারীরিক এবং ১ দশমিক ৯ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভোগেন।

আর বিশ্বব্যাপী এই ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই শিশু ও কৃষক।

প্রচলিত অ্যান্টিভেনমগুলোর সক্রিয় উপাদান হলো অ্যান্টিটক্সিন অ্যান্টিবডি। ঘোড়ার শরীরে অল্প পরিমাণে সাপের বিষ ঢুকিয়ে এসব অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়। অ্যান্টিভেনম তৈরির এই পদ্ধতি অবশ্য এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। তবে এই পদ্ধতির বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে।

নির্দিষ্ট প্রজাতিকে লক্ষ্য করে অ্যান্টিভেনমগুলো তৈরি করা হয়, এ ছাড়া এগুলোর খুব একটা শক্তিশালীও নয়। এ কারণে সাপের বিষের প্রভাব প্রশমিত করতে এ ধরনের অ্যান্টিভেনম বেশি পরিমাণে গ্রহণ করতে হয়।

এ ছাড়া এসব অ্যান্টিভেনম ঘোড়ার অ্যান্টিবডি দিয়ে তৈরি করা হয়, তাই মানুষের শরীরে প্রবেশ করালে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কারণ, মানুষের রক্তপ্রবাহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঘোড়ার অ্যান্টিবডিকে ‘বহিরাগত’ বলে শনাক্ত করে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।

গবেষণাগারে পরিবর্তিত জিন বিশিষ্ট কোষ ব্যবহার করে অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়। বিশেষ করে মানুষের ক্যানসার ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যা সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসায় এ ধরনের অ্যান্টিবডি ব্যবহার করা হয়। গবেষকেরা আশা করেন, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যান্টিভেনমও তৈরি যাবে এবং এই অ্যান্টিভেনম প্রথাগত অ্যান্টিভেনমকে প্রতিস্থাপিত করবে। গবেষণাগারে তৈরি অ্যান্টিভেনম এমনভাবে উপযোগী করে তোলা হবে যে, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সেটিকে আর ‘বহিরাগত’ বলে শনাক্ত করতে পারবে না। ফলে এতে প্রচলিত অ্যান্টিভেনমের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না। নতুন অ্যান্টিভেনমও সেভাবে তৈরি করা হয়েছে।

সাপের বিষের মধ্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী হলো নিউরোটক্সিন। মস্তিষ্ক থেকে সংকেত বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পেশিতে পৌঁছাতে বাধা দেয় এই বিষ। ফলে মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, শরীর অবশ হয়ে আসে। এই বিষ মানুষের ফুসফুসের অনৈচ্ছিক পেশিকেও অবশ করে দেয়। ফলে ফুসফুসের সংকোচন–প্রসারণ থেমে গিয়ে দ্রুত শ্বাস বন্ধ হয়ে মানুষ মারা যায়।

আফ্রিকান ব্ল্যাক মাম্বা, এশিয়ান কেউটে, বিভিন্ন জাতের গোখরা এবং ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাপ্ত বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক বিষধর শঙ্খিনী সাপে নিউরোটক্সিন পাওয়া যায়।

গবেষণাগারে তৈরি অ্যান্টিবডিকে ৯৫ ম্যাট ৫ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল ব্যবহার করে ৫ হাজার কোটি অ্যান্টিবডি নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর এই নতুন অ্যান্টিবডি আবিষ্কার করা হয়েছে। এই অ্যান্টিবডি বিভিন্ন প্রজাতির সাপের নিউরোটক্সিন শনাক্তের পাশাপাশি এগুলোর ভয়ংকর প্রভাব প্রশমিত করতে পারে।

অ্যান্টিভেনমটির কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য ইঁদুরের শরীরের সাপের বিষ প্রবেশ করানো হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ৯৫ ম্যাট ৫ ইঁদুরকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে ও বাঁচিয়ে দেয়। প্রতিবার পরীক্ষায় একই ফলাফল পাওয়া গেছে। এই ফলাফল একটি সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তবে ৯৫ ম্যাট ৫ অ্যান্টিবডি শুধু নিউরোটক্সিনের মতো বিষের ক্ষেত্রে কাজ করে। সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য আরও অনেক ধরনের অ্যান্টিবডি প্রয়োজন। কারণ সব সাপের বিষে শুধু নিউরোটক্সিন থাকে না। অন্যান্য সাপের বিষে অন্য বিষাক্ত রাসায়নিক থাকতে পারে।

কিছু সাপের বিষে হেমোটক্সিন থাকে, যার ফলে সাপে কামড়ালে রক্তপাত হয়। আবার কিছু সাপের বিষে সাইটোটক্সিন থাকে, যা ত্বক ও হাড়ের ক্ষতি করে। একটি সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম তৈরি করার জন্য যে কোনো সাপের কামড়ের চিকিৎসা করতে সক্ষম এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হবে; ৯৫ ম্যাট ৫ অ্যান্টিবডির মতোই কার্যকর আরও কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হবে।

পরীক্ষাগারে তৈরি অ্যান্টিবডিগুলো কতটুকু কার্যকর ও নিরাপদ নিশ্চিত হতে মানুষের শরীরে এটির পরীক্ষা করা জরুরি। নতুন অ্যান্টিভেনমের গুণাগুণ ঠিক রাখতে ফ্রিজে (শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে) সংরক্ষণ করতে হবে। বিশ্বের উষ্ণ অঞ্চলের জন্য যেখানে হিমাগার ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই সেখানে এসব ওষুধ সংরক্ষণ একটি চ্যালেঞ্জ। আর গবেষণাগারে তৈরি অ্যান্টিবডি সাধারণত অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়। ফলে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করতে এর উৎপাদন সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Hostitbd.Com
Design & Developed BY Hostitbd.Com